বিশ্বব্যাপী প্লাটিনামের সরবরাহ কমতে পারে ১৫-২০ শতাংশ

চলতি দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্লাটিনামের সরবরাহ ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভ্যালটেরা প্লাটিনামের প্রধান নির্বাহী ক্রেইগ মিলার।

চলতি দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্লাটিনামের সরবরাহ ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভ্যালটেরা প্লাটিনামের প্রধান নির্বাহী ক্রেইগ মিলার। এতে প্লাটিনাম গ্রুপ মেটালসের (পিজিএম) সরবরাহ ঘাটতি আরো বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাস্টেনবার্গে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিলার বলেন, ‘‌প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম ও রোডিয়ামের চাহিদা গাড়ি নির্মাতাদের কাছে এখনো বেশি। প্রচলিত ও হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ক্যাটালাইটিক কনভার্টরে এসব ধাতুর ব্যবহারও বেশি হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি রূপান্তরের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ায় এ প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’

বৈশ্বিক প্লাটিনাম সরবরাহের ৭০ শতাংশের বেশি জোগান দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি। মিলার জানান, গহনা নির্মাতাদের কাছেও প্লাটিনামের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। তবে এর আগে ধাতুটির দাম কমে গিয়েছিল। তাই গত দুই বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোম্পানিগুলো অলাভজনক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খাতটিকে ‘টার্মিনাল ডিক্লাইন’ (কোনো খাত বা শিল্প স্থায়ীভাবে পতনের পথে যাওয়া)-এর মুখে পড়ার সতর্কতা দিয়েছে বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রতিক দামের পুনরুদ্ধার খনি শিল্পে কিছুটা স্বস্তি আনলেও নতুন উত্তোলনে বিনিয়োগের জন্য তা যথেষ্ট নয়। মিলার বলেন, ‘‌প্রাথমিক উৎপাদন সীমিত এবং পুনর্ব্যবহার ব্যয়বহুল হওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের সরবরাহও বাজারে আসছে না। ভ্যালটেরার হিসেবে, নতুন খনি ও বিদ্যমান খনি প্রকল্পের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে দশকের শেষে প্লাটিনামের প্রাথমিক সরবরাহ ১৫-২০ শতাংশ কমে যাবে।’

এদিকে জ্বালানি রূপান্তরের গতি নিয়ে মিলার বলেন, ‘‌এ খাতের প্রবৃদ্ধি কম। ফলে পেট্রলচালিত কিংবা হাইব্রিড গাড়ি আরো দীর্ঘ সময় বাজারে থাকবে। এছাড়া হাইব্রিড গাড়িতে পিজিএমের (প্লাটিনাম গ্রুপ ধাতু) ব্যবহার অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত গাড়ির তুলনায় বেশি।’

আরও